অবশেষে হচ্ছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা!

এস এম আক্কাছ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার মানচিত্র

চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে ভাগ করে দুটি আলাদা উপজেলা করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার পাশাপাশি আরেকটি হচ্ছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’। দু-একদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব পাস হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরআগে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার সভায় নতুন এই উপজেলা গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা, উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ ও জনসেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে এ দাবি স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত হয়ে আসছিল। নতুন উপজেলা সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং সেবাপ্রাপ্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর গেজেট ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃহৎ এই উপজেলাকে ভাগ করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়াটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কারণ, সরকারের যেসব উন্নয়নমূলক বরাদ্দ বরাবরই আসে, বিভক্ত হলে তা দ্বিগুণ হবে। তবে এই বিভাজন কোনো ঐতিহাসিক বিচ্ছিন্নতার কারণে নয়, বরং উন্নয়ন ও জনসেবার সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়িয়ে দিতে। নতুন উপজেলা গঠনের পর অবকাঠামোগত কার্যক্রম শতভাগ কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে জনসেবাপ্রাপ্তি অনুমোদনের পরই শুরু হবে। সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সাথে নতুন উপজেলা কার্যকর হবে। শুরুতে নতুন একজন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা যোগ দেবেন। পরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদায়ন হবে।

বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলায় ২টি থানা, ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। বর্তমানে দেশে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন এই উপজেলা গঠন হলে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৯৬-এ।

এদিকে, প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সীমানা নিয়ে এখনো অসন্তোষ থেকেই যাচ্ছে। নতুন উপজেলার সঙ্গে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভূক্ত কি-না বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা। ইতিপূর্বে এসব এলাকা প্রস্তাবনা থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ’বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। তারা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও নানান আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন। তাদের দাবী ছিলো সরকারের উন্নয়নমূলক এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও এতে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে সংযুক্ত করলে চরম আইনি জটিলতা তৈরি করবে।

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে উত্তরের বাসিন্দাদের। একটি পক্ষ চায় দক্ষিণের ইউনিয়ন সুয়াবিল এবং নাজিরহাট পৌরসভা যুক্ত করে নতুন উপজেলাকে লম্বা করে ভুজপুরে সদর করতে। আরেক পক্ষ চায় সদর দপ্তর উত্তরে নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা মৌজায় করতে। তবে সচেতন মহলের অভিমত, সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে সুবিধা পাওয়ার মতো স্থানেই তা হওয়া উচিত। এই সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকটি গণশুনানিও হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা যুগ যুগ ধরে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। আজীবন ভোট দিয়েছেন কিন্তু সুফল পাননি। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র করা হয়েছে নাজিরহাটে। যা হাটহাজারী উপজেলার খুব কাছে। এই হাসপাতালের সেবা পান মূলত হাটহাজারীর মানুষ। ৯০-এর দশকের আগে উত্তরে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে পরে কিছু স্কুল কলেজ গড়ে উঠলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে উত্তরে শিক্ষার হার অনেক কম। এখানে নেই কোনো সরকারি উচ্চবিদ্যালয় এবং কলেজ। তার ওপর রয়েছে অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএওন) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘নতুন উপজেলা অনুমোদনের জন্য সাধারণত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার ফাইলটি নিকার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?