০১ জুলাই (বুধবার) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে “ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা” নামে নতুন একটি উপজেলার অনুমোদন হয়েছে।
দেশের বৃহত্তম একটি উপজেলার বিকেন্দ্রীকরণ অনেকটা বঙ্গভঙ্গের মতো বৃহৎ ফটিকছড়িবাসীর জন্য যতটা বেদনার তার চেয়ে বেশি বাস্তবতার দাবি। জনগণের প্রশাসনিক, স্বাস্থ্যগত সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এ বিকেন্দ্রীকরণ অনিবার্য ছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় – নতুন উপজেলা কতটা জনগণের স্বার্থে? জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থই কি এতে প্রাধান্য পাচ্ছে? শুরুতেই কি কোনো আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের সূচনা হচ্ছে?
এসব প্রশ্ন ও আশঙ্কার কারণ হলো, অনুমোদনের আভাস পাওয়ার পর থেকেই উপজেলা সদর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর ফটিকছড়ির এলাকাগুলো। ভূজপুরের জনগণের যুক্তি, যেহেতু পূর্ব থেকেই ওই এলাকায় একটি থানার অবস্থান রয়েছে তাই নতুন উপজেলা সদর থানার পাশে হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
প্রশাসনিক এলাকার বিকেন্দ্রীকরণ যদি জনগণের সুবিধার জন্যই হয়ে থাকে তাহলে এর সদর দপ্তরও একটি যৌক্তিক ও জনগণের সুবিধাজনক স্থানে হওয়া উচিত। সর্ব উত্তরের বাগান বাজার ইউনিয়নের এমনও এলাকা আছে, যেখানকার মানুষ মামলা-মোকদ্দমা, প্রশাসনিক ও ভূমি সেবার জন্য উপজেলা সদরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে আগের রাত থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। যে প্রস্তুতি আমরা অনেকটা ঢাকা যাওয়ার জন্য নিয়ে থাকি।
এই কঠিন বাস্তবতা থেকেই নতুন উপজেলা গঠনের দাবি উঠে আসছে অনেক বছর ধরে। নতুন উপজেলার সুয়াবিল এলাকা বাদ দিলে দক্ষিণে হারুয়ালছড়ি এবং উত্তরে বাগানবাজারের ঠিক মাঝামাঝি এলাকা হচ্ছে নারায়ণহাট। ভৌগোলিকভাবে নারায়ণহাট এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা উত্তর ও দক্ষিণের জনগণের যাতায়াতের জন্য সহজ হবে।
এখানে উপজেলা সদর হলে পশ্চিমে মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক এবং পূর্বে মানিকছড়ির সঙ্গে নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। যা এলাকার উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে। নতুন উপজেলার মানুষ আগের চেয়ে বেশি সুফল ভোগ করবে। উপজেলার বনাঞ্চল ও পাহাড়ি সম্পদ সুরক্ষায় মধ্যবর্তী স্থানে প্রশাসনিক দপ্তর হলে তা বেশি উপযোগী হবে।
এছাড়া সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করাটাও অযৌক্তিক। কারণ হালদা নদীর পশ্চিমে সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নাজিরহাট বাজার অবস্থিত। উপজেলা সদর বিবিরহাটও এই ইউনিয়নের কাছাকাছি। নতুন উপজেলার সঙ্গে সুয়াবিলকে যুক্ত করা এলাকার জনগণের সুবিধার পরিবর্তে তাদের উপর অতিরিক্ত দুর্ভোগ চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
জনগণের জন্য প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত নতুন উপজেলার সদর দপ্তর যদি খামখেয়ালিপনা বা কিছু মানুষের মন রক্ষার জন্য অযৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হেয়াকো এলাকা মিরসরাই এবং বাগান বাজারের বৃহৎ এলাকা রামগড়ের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট এলাকার সাথে শত্রুতার বীজ তৈরি হতে পারে।
তাই কতিপয় ব্যক্তি বা এলাকার মানুষের মনোবাসনা পূরণের চেয়ে জনগণের বৃহৎ স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা সদর নারায়ণহাট-শান্তিরহাটের যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে এই উপজেলার অখণ্ডতা বজায় থাকবে।
লেখকঃ
আমিরাত প্রবাসী ও সংবাদকর্মী



