সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জামির উদ্দিন সরকার আর নেই

ডেক্স নিউজ, ফ. প্র.

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিশিষ্ট আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

রোববার(১২ জুলাই) ভোররাতে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দেশের আইন অঙ্গন ও রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দলের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা ছিলেন মৌলভী মুহাম্মদ আজিজ বক্স। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স), এমএ এবং পরে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দিয়ে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী মুসলিম লীগ, ন্যাপ, জাগদল হয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুর-১, ঢাকা-৯, পঞ্চগড়-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

সরকারি দায়িত্বে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শিক্ষা খাতে এবং আইনমন্ত্রী হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হাইকোর্টের সেই আইনজীবীদের অন্যতম ছিলেন, যারা স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আইন পেশায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে পাঁচবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন।

শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ১৯৯০ সালে তিনি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্ত্রী নূর আখতার ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট নওশাদ জমির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?