ফটিকছড়ির উত্তর পূর্বাঞ্চল দাঁতমারা, বাগান বাজার, কাঞ্চননগর, খিরাম, লেলাং, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া অঞ্চলে হাতির বিচরণ ছিল। হাতি গুলো অনেক ফসল নষ্ট করতো। অনেক প্রাণহানিও ঘটেতো। ২০০২-০৪ সালে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের জন্য বন জঙ্গল কাটা, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ে আগুন দেয়া আর বনে খাদ্যের অভাবে বন্য হাতির পাল গুলো রাঙ্গামাটির খাউখালি হয়ে কাপ্তাই অঞ্চলে চলে যায় বলে ধারণা করা হয়। এখানে এখন আর ধান পাকার সময় কৃষককে রাত জেগে পাহারা দিতে হয় না। ফসল নষ্ট হয় না। কিন্তু হারিয়ে গেছে যুগ যুগান্তরের একটি বন্যপ্রাণী। এই অঞ্চলের শিশুরা বইয়ের পাতায় পড়বে হাতির গল্প। চোখে দেখবে না। অথচ দাঁতমারা ইউনিয়নের নাম করণ হয়েছে হাতির দাঁতমারার কারণে।
“জনশ্রুতি আছে যে, কোন এক সময় একটি পাগলা হাতি বড় একটি গাছে দাঁত দিয়ে আঘাত করেছিল। এরপর ঐ গাছকে দাঁতমারা বলা হত। পরবর্তীতে আশে পাশের এলাকা সমূহ দাঁতমারা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এবং এ নামেই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়।”
হাতির খেদা, পিলখানা নামেও এই অঞ্চলে অনেক গ্রামের নাম করণ হয়েছে। হাতি চলে গেলেও হাতির চিহ্ন গুলো বহমান সর্বত্র….
প্রতিবছরের মতো ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক হাতি দিবস। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এশীয় ও আফ্রিকান হাতিদের রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০১২ সাল থেকে দিনটি পালন করে আসছে বিশ্ববাসী। স্থলভাগের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও মানুষের হাতে নির্মম শোষণ, বিনোদনের নামে নির্যাতন আর চোরাশিকারের শিকার হয়ে আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে অতি সংবেদনশীল এই প্রাণীটি।



