ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী-বাবুনগরীর বৈঠক; গুঞ্জন মাড়িয়ে একগুচ্ছ দাবিতে আশার আলো

এস এম আক্কাছ

বাবুনগর মাদরাসায় গত ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: পিএমও

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গেল ৯ আগস্ট ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে একটি মহল।

কিন্তু সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহেই সাক্ষাৎটি পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাৎ। সে কারণেই মূলত প্রধানমন্ত্রীর এখানে আসা। তবে সাক্ষাতে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯ দফার একটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফটিকছড়িবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত কয়েকটি জনদাবিও মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এতেই পুরো উপজেলাবাসী আশার আলো দেখছেন।

একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ফটিকছড়িবাসীর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবি শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ফাউন্ডেশনের নামে আমিরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে তুলে দেন। শুরুতে এ বিষয়ে আমির কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে দাবিগুলো সংবলিত ফাইলে স্বাক্ষর করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

সূত্রগুলো জানায়, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান তথা উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সেবার জন্য ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ফটিকছড়িতে ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় আবেদনে।

একই সঙ্গে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা থেকে উত্তোলিত সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস ফটিকছড়িবাসী ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে তা স্থানীয় উন্নয়ন ও শিল্পায়নে কাজে লাগানোর দাবিও উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেদিনের বৈঠক ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য ও বক্তব্য ছড়ালেও সংশ্লিষ্টদের দাবির বিষয়টি নিয়ে অসত্য, অতিরঞ্জিত ও অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য মো. সরোয়ার আলমগীর দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফটিকছড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলে চা শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সম্ভাব্য শিল্পায়নে নতুন গতি আসতে পারে। তাছাড়া হাসপাতাল, বিদ্যুৎ আর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের বিষয়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপপ্রচারকারীরা অপপ্রচারেই পড়ে থাকুক আর আমরা কাজেই আছি, ইনশাল্লাহ।’

স্থানীয়রা মনে করেন, এখানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে এবং জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করা গেলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি এবং স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?