ফটিকছড়ির কোনো স্কুলের মাঠে হয়তো ফুটবল নিয়ে ছুটছে একদল কিশোর। কোথাও চলছে ক্রিকেটের অনুশীলন, আবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত কিশোরীরা ভলিবল কিংবা ব্যাডমিন্টন নিয়ে। খেলাধুলার প্রতি শিশু-কিশোরদের এই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেল ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নিবন্ধনেও। সারা দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা।
সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ফটিকছড়িতে মোট ২২ হাজার ৫১৫ জন শিক্ষার্থী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে। তাঁদের মধ্যে কিশোর ১১ হাজার ১৯২ জন এবং কিশোরী ১১ হাজার ৩২৩ জন। অর্থাৎ নিবন্ধনে কিশোরদের চেয়ে কিশোরীর সংখ্যা ১৩১ জন বেশি।
১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন শুরু হয় গত ১ জুলাই। পরে সময় বাড়িয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফটিকছড়িতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করে।
প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিস- এই ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে। গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি ইভেন্ট যুক্ত করে মোট ১০টি করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ফটিকছড়ির শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন ফটিকছড়ির জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও খেলাধুলার প্রসারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নিবন্ধন শুধু একটি সংখ্যাই নয়, ফটিকছড়ির স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহেরও একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এখন নিবন্ধনের পর মাঠের প্রতিযোগিতায় সেই আগ্রহ কতটা সাফল্যে রূপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।



