১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে সড়ক সংস্কার; এগিয়ে এলেন উদ্যোক্তা অপু

ফপ্র সারথি

ফ.প্র সারথি:

প্রতিদিনই দেখতেন। অফিস থেকে বেরিয়ে নামাজের জন্য থানা মসজিদে যাওয়ার পথে সেই এক দৃশ্য। বড় বড় গর্তে ভরা ত্রিমুখী সড়ক, সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-জলে একাকার। কখনো রিকশা উল্টে যাচ্ছে, কখনো হোঁচট খাচ্ছেন বয়োবৃদ্ধ মুসল্লি। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ছে যানজটে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরে থানার সামনের এই সড়কটি যেন ছিল নিত্যদিনের এক ভোগান্তির প্রতিশব্দ।

দীর্ঘদিন ধরে এই জনদুর্ভোগের চিত্র দেখে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সবাই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছিল না। সরকারি উদ্যোগের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষায় যখন সবাই ক্লান্ত, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে এগিয়ে এলেন ইনজামাম অপু।

তিনি পেশায় উপজেলার জনপ্রিয় ওয়েব ডেভেলপার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। কিন্তু এবার তিনি পরিচিতি পেলেন একজন দায়িত্ব¡শীল ও মানবিক উদ্যোক্তা হিসেবে। আর অপেক্ষা নয়; এই ভেবে নিজ উদ্যোগেই ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে নিজের জমানো কিছু অর্থ নিয়ে আর কয়েকজন শ্রমিক সাথে নিয়ে ইনজামাম অপু নেমে পড়লেন রাস্তয়। রাতভর পরিশ্রমে ইট, বালি আর কংক্রিট ফেলে ভরাট করতে লাগলেন মরণফাঁদে পরিণত হওয়া সেই গর্তগুলো।

কেন এই উদ্যোগ? ইনজামাম অপু বলেন, “বেহাল সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আমি অফিস থেকে নামাজ পড়তে থানা মসজিদে যাই। প্রতিনিয়তই দেখি সেখানে দুর্ঘটনায় পড়ে লোকজন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সওয়াবের কথা চিন্তা করে তখনই উপলব্ধি করি, সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এটি সংস্কারের কাজ শুরু করব।”

ইনজামাম অপুর বিশ্বাস, উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। তিনি আরও বলেন, “সমাজের সব সচেতন নাগরিককেই নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি কাজটি করেছি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সওয়াবের আশায়। আখেরাতের জন্যই। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি স্থানে সংস্কার করব ইনশাল্লাহ।”

ইনজামাম অপুর এই পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে স্বস্তি, আর তার প্রতি জন্মেছে গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শহীদুল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বাজে অবস্থায় থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। তরুণ উদ্যোক্তা, সভ্য ও পরহেজগার ইনজামাম নিজের খরচে কাজ শুরু করেছেন; এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

আরেক পথচারী মুহাম্মদ জাকারিয়া তার মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “ইনজামামের এই উদ্যোগ আমাদের গর্বিত করেছে। আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থ রাখেন। তিনি জনপ্রিয় ওয়েব ডেভেলফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেও আজ তিনি যে কাজটি করেছেন তাতে আমাদের সবার চোখ খুলে গেছে।”

তরুণ এই উদ্যোক্তার কাজ নজর এড়ায়নি প্রশাসনেরও। ইনজামাম অপুর এই পদক্ষেপকে দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “ইনজামাম আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন; সমাজের সব সচেতন নাগরিককেই নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। তার এই কাজ অনুকরণীয় এবং দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

স্থানীয়দের আশা, ইনজামাম অপুর এই দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং সরকার দ্রæত পুরো সড়কের টেকসই সংস্কার কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এতে জনদুর্ভোগ হ্রাস পাবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?