ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দিলেন দলের দুই শীর্ষ নেতা। একে অপরের সঙ্গে বুক মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রকাশ ঘটান ফটিকছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর ও উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আজিম উল্লাহ বাহার। এসময় দুই শীর্ষ নেতার বুক মেলানো মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দৃশ্য শুধু মিলনের নয় বরং নেতাকর্মীদের জন্য স্পষ্ট সংকেত; এবার বিভক্তি নয়; ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের জয় চাই৷
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এই ঐক্যের সূচনা হয়।
এসময় তাদের বুক মেলানোর দৃশ্য দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা পিনপতন নীরবতা ভেঙ্গে আনন্দে ফেঁটে পড়েন। আবেগঘন পরিবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে তৈরি হয় নতুন এক আশার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন,“আমি এখানে এসেছি সব ভেদাভেদ ভুলে। অতীতের কোনো বিষয় এখন আর সামনে আনতে চাই না। আমি আশাবাদী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্ণেল আজিম উল্লাহ বাহারের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্ণেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, “আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সে হিসেবে সরওয়ার আলমগীর আমার ছোটভাই। অতীতে আমাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। আমিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছি। কিন্তু দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমরা সবাই তার পক্ষেই কাজ করবো। এখন আর কোনো ভেদাভেদ নেই—একটাই লক্ষ্য, ধানের শীষকে বিজয়ী করা। ব্যক্তি আলমগীর নয়, ধানের শীষকে ভোট দিন।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, সুন্দরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আজমসহ উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিল শেষে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর পর এই আসনটি ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক দল তরিকত ফেড়ারেশনের নজিবুল বশর ভান্ডারী (নৌকা প্রতীক নিয়ে) এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি (নৌকা) প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।



