জন্ম: ৩০ ডিসেম্বর ১৯২৯, ফটিকছড়ির বখতপুর বকস আলী মুন্সির বাড়িতে। ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে যে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, উক্ত পরিষদে ইকবাল হলের (বর্তমান জহুরুল হক হল) প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর প্রায় সব কয়টিতেই মুহম্মদ ফয়েজ নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষা-আন্দোলনকে গতিশীল রক্ষার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছিলো।
২১ ফেব্রুয়ারির দিন তিনি একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে সেক্রেটারিয়েটের দিকে যাওয়ার চেষ্টাকালে হাইকোর্টের গোলচত্বরে সশস্ত্র পুলিশের আক্রমণে পড়েন। পরে সেখান থেকে গতি পরিবর্তন করে মিছিলটি নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কে গিয়ে সেখানে সমাবেশ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম চলে আসেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ফটিকছড়ি স্কুল মাঠে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বিরাট সমাবেশের আয়োজন করেন।
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে দুইজন ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়েছিলো এবং পরে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছিলো, তাঁদের মধ্যে মুহম্মদ ফয়েজ একজন (অপরজন হলেন শামসুল হক চৌধুরী)। তিনি কর্মজীবনে প্রতিযশা আইনজিবী ছিলেন। ছিলেন বিদেশে রাষ্ট্রদূত। এলাকায় স্কুল কলেজ প্রতিষ্টায় অবদান রাখেন। তার স্ত্রী চট্টগ্রামের বনেদী পরিবার মাহমুদুন্নবী চৌধুরীর কন্যা এবং তারপুত্র সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী।
মৃত্যু: ১৬ আগস্ট ২০০৮ চট্টগ্রাম শহরে তিনি ইন্তেকাল করেন।



