ফটিকছড়ি উপজেলায় তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। দৈনিক প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৩ মেগাওয়াট। ফলে দিন-রাতজুড়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলাজুড়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। এতে সদর এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র শিল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ অধিকাংশ টিউবওয়েল ও পানির মোটর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা শওকত জানান, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, রাতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার বাসিন্দা আলী সিকদার বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ রাখতে হয়, ফলে আয় কমে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে তাঁদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এদিকে, আসন্ন এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বিদ্যুৎ সংকট তাদের পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাখিল পরীক্ষার্থী সাহেদ বলেন, রাতে পড়তে বসলে প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়, গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রসেনা পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক মো. আলতাফ গওহার চৌধুরী বলেন, ‘গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।’



