২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি নামলেই উৎসব: হারুয়ালছড়ি খালে রাবার ড্যামের গল্প

ফপ্র সারথি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি খাল এখন আর শুধু একটি জলধারা নয়- এটি একসঙ্গে জীবিকা, উৎসব আর সম্ভাবনার প্রতীক। খালের ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম বদলে দিয়েছে এখানকার কৃষি চিত্র। আর নির্ধারিত সময়ে পানি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাল রূপ নেয় এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে খালের পানি ছেড়ে দেওয়া হলে মুহূর্তেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে চারপাশ। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মানুষ। কারও হাতে জাল, কারও ঝাঁকি, কেউবা ডোলা নিয়ে নেমে পড়েন পানিতে। অনেকে আবার খালি হাতেই মাছ ধরার চেষ্টা করেন- যেন উৎসবের আনন্দটাই বড়।

খালের পাড়জুড়ে তখন ভিড়। পানিতে নেমে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবাই মেতে ওঠেন মাছ ধরার আনন্দে। কাদামাটিতে হাত ঢুকিয়ে মাছ খোঁজা, স্রোতের টানে জাল ফেলা, সব মিলিয়ে দৃশ্যটি যেন এক গ্রামীণ মেলার প্রতিচ্ছবি। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসও কম নয়।

স্থানীয় কৃষক মো. শাহজাহান জানান, কয়েক বছর আগেও শুষ্ক মৌসুমে এই খালে পানি থাকত না। কৃষিকাজে অনেক সমস্যা হতো। রাবার ড্যাম হওয়ার পর এখন সারা বছর পানি থাকে। এতে ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে।

চিংড়ি মাছ ধরে আসা মন্টু নাথের চোখেমুখে আনন্দের সুর। তিনি বলেন, এমন সুযোগ বছরে এক-দু’বারই আসে। তাই সবাই মিলে এখানে আসি। মাছও পাই, আনন্দও হয়।

প্রবাসী বাসিন্দা মো. পারবেজ বলেন, এই খাল এখন উন্নয়ন আর আনন্দের এক সুন্দর মেলবন্ধন। সেচের সুবিধার পাশাপাশি মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এটি।

হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব আলী বলেন, খালের পানি সংরক্ষণ, সুষ্ঠু বণ্টন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছি আমরা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পানি ছাড়ার ফলে কৃষকরা প্রয়োজনমতো সেচ পাচ্ছেন, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপভোগ করছেন এই ব্যতিক্রমী উৎসব।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, রাবার ড্যাম শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়ায়নি, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। মানুষ বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে, সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হচ্ছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?