ফটিকছড়িতে মো. এনাম নামে এক বর্গাচাষীর জড়ো করে রাখা কাটা ধানে রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কৃষকের ধানের গাদায় থাকা ৪০ শতাংশ জমির ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে নাজিরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ এনাম এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনভর শ্রমিক নিয়ে মাঠের ধান কেটে বাড়ির পাশের খোলা স্থানে স্তূপ করে রাখেন এনাম। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এলাকাবাসী দৌড়ে এলেও তাদের প্রচেষ্টায় ততটা ফল হয়নি। আগুন নেভানোর পর দেখা যায়, প্রায় ৫ মণ ধান পুরোপুরি পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. এনাম বলেন, “সারা বছরের কষ্টের ফসল তুলে কত স্বপ্ন দেখেছিলাম। এক রাতে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। কে বা কারা আগুন দিয়েছে বুঝতে পারছি না। পুরো বর্গা চাষটাই করেছি ঋণ নিয়ে। এখন সেই ঋণের বোঝা মাথায় চেপে বসেছে। পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছি।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে এ ধরনের জঘন্যতম কাজের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এজন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একজন কৃষকের সারাবছরের পরিশ্রম মুহূর্তে নষ্ট হয়ে গেছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। কৃষক যাতে দ্রুত আবার চাষাবাদে ফিরতে পারেন—তার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
এর আগে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মহানগর গ্রামের বর্গাচাষী তাপস দে। চারশ শতক জমির কাটা আমন ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়িয়ে ছাই হয়ে যায় । ঘটনার পর একই এলাকার সানী দাশ, প্রদীপ কুমার দাশ এবং তয়ন দেবের বিরুদ্ধে ভুজপুর থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক তাপস কান্তি দে। এ ঘটনায় সানি দাশ ও প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ফটিকছড়ি থানার ওসি নূর আহমদ বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



