জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেশের অগ্রযাত্রাকে দীর্ঘদিন বাধাগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আল্লামা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যদি সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা আসেন, তাহলে দেশের চেহারা বদলাতে বেশি সময় লাগবে না।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ফটিকছড়িতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ফটিকছড়ি উপজেলা সমন্বিত শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সিরাত কনফারেন্স, পুরস্কার বিতরণী ও ‘জলসায়ে ইশকে নবী মুহাম্মদ (সা.)’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সীরাত আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শেখ হুসাইন মোহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদী। প্রধান বক্তা ছিলেন সুলতান মাহমুদ এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন মুফতি মিশকাতুল ইসলাম।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে কেউ দেশপ্রেমিক হতে পারে না। একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম উপদেষ্টা নিয়োগের আগে ১২ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে আমার নাম প্রথমে রাখা হয়। কওমি ও আলিয়া- উভয় ধারার মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করায় দেশের বিভিন্ন মহলে আমার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ দেশে একদিন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। খোলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ অনুসরণ করে একটি সুশাসিত, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুফতি মফিজুর রহমান চাটগামী, ড. নোমান আল আজহারী, মুফতি ওসমান, মাওলানা আসেম বাবুনগরী, অধ্যাপক এন এম রহমতুল্লাহ, মুফতি তাওহিদুল ইসলাম, মুফতি এজাজ উল্লাহ ত্বকী, মাওলানা আবু বকর, মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ ও মাওলানা শওকত আলী আজমী।
মাওলানা কবি আলী আকবরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ, আরিফুল ইসলাম ও শাহ ঈসমাইল হুসাইন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



