চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডারে আসা ভক্ত-আশেকানদের গাড়ি সড়কের দুই পাশে পার্কিং করায় নাজিরহাট-বিনাজুড়ী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজটে সড়কের কয়েকটি অংশে যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে এ যানজট শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও গাড়ি চলাচলের জায়গা না থাকায় পুরোপুরি আটকে পড়ে যানবাহন।
জানা যায়, মাইজভাণ্ডারে গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পবিত্র খোশরোজ শরীফ উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত-আশেকান মাইজভাণ্ডারে আসছেন। তাদের বহনকারী বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কের দুই পাশে রাখায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
যানজটের কারণে উপজেলার লেলাং, নানুপুর, খিরাম, নাজিরহাট পৌরসভাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এছাড়া অনেকে যানবাহন ছেড়ে আজিমনগর সড়কসহ বিভিন্ন বিকল্প পথে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সময় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক সওদাগর বলেন, মাইজভাণ্ডারকেন্দ্রিক বড় কোনো আয়োজনের সময় এ সড়কে যানজটের আশঙ্কা থাকে। তবে এবার আগাম যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও নির্ধারিত স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
মাইজভান্ডারে আসা মুত্তাকিম রহমান বলেন, বাবা ভান্ডারীর খোশরোজ শরীফের উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। গাড়ী ডুকতে না পাড়ায় নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে হেঁটে হেঁটে আসতে হলো।
এদিকে, যানজট নিরসনে দ্রুত সড়কের দুই পাশ থেকে পার্ক করা গাড়ি সরিয়ে নেওয়া এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজ বলেন, যানজট নিরসনে নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের দুটি দল কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।



