মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি-ফটিকছড়ি উত্তর) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। আগামী প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দাঁতমারা বাজার থেকে হেয়াকো বাজার পর্যন্ত মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে র্যালিটি হেয়াকো বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরোয়ার আলমগীর।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মকে সন্ত্রাস ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ উত্তর ফটিকছড়ির গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও অলিগলিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ উদ্যোগকে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, সরকারের মাদকবিরোধী কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকার ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর- দুই উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে তরুণদের বিপথগামিতা রোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর দিয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, হেয়াকোতে পৌরসভা গঠন এবং শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে- এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে সন্তানরা যেন বাইরে না থাকে, সেদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
র্যালিতে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম, সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল, মোজাম্মেল হায়দার বাবু, আবুল হোসেন আবু, কামাল সিকদার, যুবদল নেতা নুরুল আমিন ও একরামুল হকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।



