শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরে সেই শালীর অন্যত্র বিয়ে—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জন্ম নেয় তীব্র ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যার তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) বুধবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে মঙ্গলবার কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার পাঁচথুবি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে আরেক আসামি ফাতেমা বেগম (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফিরোজ আহাম্মদের শাশুড়ি।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২১ জানুয়ারি রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা তার ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২৬ জানুয়ারি সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা থেকে মূল আসামি ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ আহাম্মদ ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ফটিকছড়ির ধর্মপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন। ওই সময় ফিরোজ তার স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রতিবেশী রাজু মিঞার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে রাজু মিঞার সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে দেওয়া হয়।এই বিয়ের ঘটনায় ফিরোজ আহাম্মদ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হলেও তাদের ক্ষোভ কমেনি। পরে তারা রাজু মিঞাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ আহাম্মদ তার স্ত্রীর জন্য একটি থ্রি-পিস দেওয়ার কথা বলে রাজুকে খনখাইয়া খালের পাড়ে ডেকে নেন। সেখানে ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পেট, গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।হত্যার পর মরদেহ খালের ঢালে বালিচাপা দেওয়া হয়। ব্যবহৃত ছুরিটি খালের পানিতে এবং রাজুর সঙ্গে থাকা থ্রি-পিসটি পাশের সেগুন বাগানে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ফিরোজ প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লায় আত্মগোপনে চলে যান। পরে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ খনখাইয়া খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেগুন বাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করে। পাশাপাশি হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।



