৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে

উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ

রাজনৈতিক প্রতিবেদক

সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণকে ঘিরে উৎকন্ঠা থাকলেও মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। অনেক কেন্দ্রেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘসময় পর ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার।

সকাল পৌনে আটটায় উপজেলার পাইন্দং শ্বেতকুয়া পাড়া ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। ভোট দিয়ে পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং নিজের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রয়েছেন বলেও জানান।

পরে সকাল পৌনে ৯টায় নিজ কেন্দ্র নুর আহমদ ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন বিএনপি’র প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের সমর্থনেই বিজয় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্য ছয় প্রার্থী সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতারও তাদের স্ব স্ব ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এডভোকেট ইসমাইল গণি সকাল ১১ টায় নাজিরহাট আহমদীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, ‘উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে স্থানীয় বিএনপি’র নেতারা জোর খাটিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রভাব দেখাচ্ছেন। ভোটারদের প্রলুব্ধ করছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

সংসদীয় এই আসনে লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ ও নারী দুই লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। পোস্টাল সাত হাজার ২৫৫ জন ভোটার। মোট ১৪০ টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯০০টি ভোট কক্ষে ভোটাররা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের প্রন্তুতি রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় মোট ৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি সেনা, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছেন। সার্বিকভাবে সকাল এগারটা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনো উৎকণ্ঠা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?