১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ নারী দিবস

মহিলা নেই ‘মহিলা বিষয়ক’ কার্যালয়ে!

এস এম আক্কাছ

৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় নারীদের কল্যাণে কাজ করে। এটি নারীর অধিকার, সাম্য ও মুক্তির আন্দোলনের বিশেষ দিন। লক্ষ্য নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়া। ‘মহিলা বিষয়ক’ কার্যালয়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাকে মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখে।

কিন্তু চট্টগ্রামের এই উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে দীর্ঘদিন পুরুষ কর্তকর্তা। নারীর পরিবর্তে পুরুষ থাকায় অনেক সময় নারীরা তাদের অভিযোগ বা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো বলতে দ্বিধা করেন। পারিবারিক সহিংসতা আইনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে প্রয়োগকারী কর্তার দায়িত্ব দেওয়ায় সেখানে নারী কর্মকর্তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারী সেবা গ্রহণে অস্বস্তি অনুভব করেন। যা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা মনে করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা মো. ছফি উল্লাহ। তিনি ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি ফটিকছড়িতে যোগ দেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের সন্ধীপেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে আছেন মো. নিজাম উদ্দীন ভুইয়া। আরোও তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরেই খালি। কার্যালয়টি নারীবান্ধব হলেও কোনো নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীই এখানে নেই।

নারীর ক্ষমতায়ন ও নানা সুবিধার্থে এই মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে নারী কর্মকর্তা বা একজন নারী কর্মচারীর পদায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।

নাজিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা শিক্ষক শারমিন আকতার বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে নারীর উন্নয়ন। উন্নয়নের মূলস্রোতধারায় নারীকে সম্পৃক্তকরন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে এখানে নারী কর্মকর্তা জরুরী। এতে নারী অব্যক্ত কথা শেয়ারের মাধ্যমে সমাধান এবং উন্নয়ন তরান্বীত হতে পারে।’

সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা লায়লা বেগম বলেন, ‘এখানে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলে তারা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, মহিলাদের হাঁস-মুরগী পালন, বাড়ীর পাশে সবজি চাষ, গরু-ছাগল পালন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে নানান প্রশিক্ষণ বিষয়ে অকপটে কথা বলতে পারতেন।’

বাগান বাজারের লুতফুর নেছা বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারী-শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মানসিক কাউন্সেলিং, আশ্রয় এবং সমাজে পুণর্বাসন কাজে নারীদের অংশ গ্রহণে এখানে একজন নারী কর্মকর্তা অপরিহার্য্য।’

উপজেলার সুশীল সমাজের লোকজন মনে করছেন, নির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগ গ্রহণ, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, দেনমোহর, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণ-পোষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পুরুষের চেয়ে নারী কর্মকর্তাকেই বেশি প্রধান্য দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন নারীরা এবং সেটাই হওয়া উচিৎ।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ছফি উল্লাহ বলেন, ‘কার্যালয়ে মহিলা কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকার বিষয়টি উর্ধ্বতনদের এখতিয়ার। আমারা পুরুষ হলেও নারীদের উন্নয়নে কাজ করি এবং সরকারের নির্দেশনা পালন করি। সরকার নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনিক ও জনবল সংকটের কারণে। তবে এ সংকট যদি নারীদের সেবাপ্রাপ্তি ও গোপনীয়তার বিষয়টিকে ব্যাহত করে, সেক্ষেত্রে আমি বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।’

চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘চেষ্টা করছি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে। প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা এবং নারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে দ্রুত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়নের চেষ্টা করবো।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?