১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুজপুরে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মাছ, মাটি ও গাছ কেটে লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুজপুর থানাধীন হাজিরখিলে এক যুবকের মৎস্য প্রজেক্ট থেকে মাছ, জমি থেকে মাটি ও পাড়ের গাছ কেটে লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক চট্টগ্রাম জেলা মেজিস্ট্রেট আদালতে ছয় জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, আসামীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, তারা দুই পক্ষই পরস্পর প্রতিবেশি এবং পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক পক্ষ বিরোধীয় জমি ও মাছের প্রজেক্ট দখলে রেখে ভোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষে কয়েকবার বিরোধ তুঙ্গে উঠে। পরবর্তীতে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর প্রতিপক্ষ বিএনপির দলীয় প্রলেপ লাগিয়ে এসব দখলে মরিয়া হয়। ফলশ্রুতিতে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মাছ, মাটি ও গাছ কেটে লুট করেন।

ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দীন মঈনু অভিযোগ করেন, ‘বিভিন্ন দলিলমুলে খরিদসূত্রে এই মৎস্য প্রজেক্ট, নাল জমি ও প্রজেক্ট পাড়ের গাছ আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন। আমাদের নামে এসব সম্পত্তির অধীনে বিএস খতিয়ান চুড়ান্ত প্রচার আছে। কিন্তু গত ২৭ মার্চ দুপুরে প্রতিবেশি মইনুদ্দীন ননী, ফজল করিম মাসুম, মামুন, মহিউদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও নাছিমা আকতার নামের এক নারীসহ ৮-১০ জন দুস্কৃতকারী মিলে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদের মৎস্য প্রজেক্ট, নাল জমির মাটি ও প্রজেক্টের পাড়ের গাছ কেটে লুট করে নিয়ে যায়।’

মহিউদ্দীন দাবী করেন, ‘প্রতিবেশি ফজল করিম মাসুম ও মইনুদ্দীন ননীসহ কয়েকজন এলাকায় বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্মসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। দলীয় কারণে এসব বিষয়ে এলাকার সচেতন লোকজন এগিয়ে আসতে ভয় পান। মূলত তাদের নেতৃত্বে তারা ওই সব এলাকায় ঢুকে মাছ, গাছ ও মাটি কেটে নেয়। তিনি ঘটনার সাথে সাথে থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার কথা জানান।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঘটনার সময় এসব প্রতিরোধে নিজে এগিয়ে আসলে তারা আমার উপর হামলে পড়ে হত্যার চেষ্টা করেন এবং জানে মেরে ফেলার আল্টিমেটাম দেন। পরিবারের সবাইকে গুম করে ফেলারও কথা বলেন তারা।’

অভিযুক্ত মো. ফজল করিম মাসুম বলেন, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যমূলক দলীয় ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। আমি বা আমরা কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমরা এলাকায় কেনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি ভবিষ্যতে দেবওনা। একথা এলাকার সবাই জানেন।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব অনৈতিক ও অন্যায় কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। অভিযুক্তরা নিজেরা এসব করেছেন; এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আসামীদের ধরতে অভিযান চলছে।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?