১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয়

নিভল দুই অবুঝ প্রাণ, দায় কার?

এস এস আক্কাছ

ইটভাটার মরণফাঁদে নিভল দুই অবুঝ প্রাণ, যেনো অসহনীয় এক শোক গাঁথা। মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা স্তব্ধ, আমরা বাকরুদ্ধ। গতকাল থেকে পুরো মনজুড়ে ঘুরপাক নিষ্পাপ ছোট্ট দুই শিশুর কথা, তাদের পরিবারের কথা, অসহায় মা বাবার নি:স্বতার কথা।

দুটি সতেজ প্রাণের এমন অকাল মৃত্যুতে শুধু ওই পরিবার দুটি নয়, পুরো এলাকা যেন স্তব্ধ। ইটভাটার এই গর্তগুলো শুধু মাটি নয়, যেন গিলে খাচ্ছে একেকটি সুন্দর স্বপ্ন আর সাজানো সংসার।

এই শোকের বুঝি কোন ভাষা নেই, এই ব্যথার কোনো ব্যাখ্যা নেই। কেবল বুকের গভীরে পুঁড়ছে, আর চোখ দুটো জলে ভাসছে। গেলো রাতে নিজের সন্তানদের দেখছি আর ভাবছি, এদের ছেড়ে কিছুতেই তো আমি থাকতে পারবো না। ঝরে যাওয়া এই ফুলগুলো ছেড়ে তাদের মা-বাবারা কিভাবে থাকবেন? আহা, কী অসহনীয় কষ্ট! কী যে ভীষন বেদনাবিধুর এই মুহূর্তগুলো!

সংবাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ভোরের আলো ফুটতেই প্রতিদিনের মতো বইখাতা হাতে মাদ্রাসার পথ ধরেছিল দুই ছোট্ট শিশু। চোখেমুখে ছিল একরাশ স্বপ্ন আর দুরন্তপনা। কে জানত, সেই চেনা পথই তাদের অনন্তকালের যাত্রাপথ হয়ে দাঁড়াবে! উপজেলার ইটভাটাগুলোর জন্য খোঁড়া এক গভীর গর্ত অকালেই কেড়ে নিল দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। এ দায় কার?

আমি তাদের কথা লিখছি, আর চোখের জলে সবটা ঝাপসা দেখছি। আর, ভাবছিতো ভাবছি সন্তান হারা মা-বাবারা, যাদের ঘরে আজ চিরস্থায়ী শূন্যতা। তাদের সারাটা জীবন কীভাবে কাটবে? কি নিয়ে বাঁচবেন?

উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব-ফটিকছড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের আদরের কন্যা সাকি আকতার এবং জাকির হোসেনের আদরের কন্যা সানজিদা আকতার। দুজনেই ভুজপুর আল মাহাদুল ইসলাম বালক-বালিকা মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুরন্তপনায় ছিলো তারা দারুণ!

স্থানীয়দের চোখে একদিকে স্বজন হারানোর জল, অন্যদিকে কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ। ইটভাটার মালিকদের অপরিকল্পিত ও খামখেয়ালিভাবে খোঁড়া এসব গর্তই সাকি ও সানজিদার মতো নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এসব মৃত্যুফাঁদের দায়ভার কে নেবে, সেই প্রশ্ন এখন সবার সামনে।

জানিনা ইটভাটার জন্য এই মৃত্যুকূপটি কারা করেছে। তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা গেলে, ধনাঢ্যরা পরিবার দু’টির পাশে দাঁড়ালে, রাষ্ট্রযন্ত্র মানবিক বিবেচনায় দায়িত্ব নিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এলেই তবে দুটি সতেজ প্রাণের পরিবারগুলো হয়তো কিছুটা শান্তি পাবে, তাদের দু:সহ কষ্ট লাঘব হবে।

এ দেশে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, কিছুদিন হৈ চৈ হয়, তদন্ত কমিটি হয়। তারপর ধীরে সব স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যাদের ঘরে আলো নিভে গেছে, যাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে, তাদের কি হবে? আমরা সবিনয়ে জানাই, যেনো এই হৃদয় বিদারক ঘটনার তদন্ত হয়, ভবিষ্যতে আর যেনো কোনো বাবা, মা সন্তান হারা না হোন।

লেখক: সম্পাদক, ফটিকছড়ি প্রতিদিন।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?