দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করার পর থেকে এর শাখা-উপশাখা ও উজানে পরিবেশবিরোধী সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নদীর উজান অংশে শুরু হয়েছে খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে হালদার উজান সালদা এলাকায় মরা খাল পুনরুদ্ধার কাজে গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ৪৭৬ জন শ্রমিকের অংশগ্রহণে ইতোমধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোর কাজেও এসেছে দৃশ্যমান অগ্রগতি।
অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নেওয়া এ খাল খনন কর্মসূচিতে ৪৩ দিনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাজের গতি সন্তোষজনক হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও বেশি খাল খনন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা।
উপজেলা মৎস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা যায়, হালদা নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুকপাড়া পাহাড়ি ঝিরি থেকে। নদীটি মানিকছড়ি, ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারি ও পাঁচলাইশ হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ হালদা নদী ও এর তীরবর্তী ৯৩,৬১২টি দাগের ২৩,৪২২ দশমিক ২৮০৫৯ একর এলাকা সরকারিভাবে ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে নদী রক্ষায় ১৬টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এরপর থেকে উজান ও শাখা-প্রশাখায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং মরা খালে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিতে হালদা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে এ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে খনন কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান। এ সময় তাঁরা এক সপ্তাহের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পিআইও কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে সালদা অংশে মরা খাল পুনরুদ্ধারে ৪৭৬ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৪৩ দিনের মধ্যে ৫ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য থাকলেও কাজের অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই আরও বেশি খনন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, মানিকছড়ি অংশে হালদার অন্তত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার খাল পাহাড়ি মাটিতে ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে হালদার প্রাকৃতিক প্রবাহ ও মৎস্য প্রজনন টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




