ভবন ধসের আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস করছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের করালিয়া দরগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি ক্লাস নেন শিক্ষকরা। যে কোনো সময় পরিত্যাক্ত ভবন ধসে প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে, বড় ধরণের ঝুঁকি এড়াতে অক্ষমী টিনশেড ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা- ফেনী- খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশঘেঁষে ১৯৭০ সালে ১ একর জায়গার উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও জাতীয়করণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। শুরুতে টিনশেডের ভবনে পাঠদান চললেও ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় বিদ্যালয়ের একমাত্র পাকা একাডেমিক ভবনটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে মাত্র ৩০ বছরে ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে শ্রেণী কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের গা ছুঁড়ে ক্ষত চিহ্ন। পিলারগুলো নড়বড়ে, ভবনের স্থান ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবনের পিলার ও ছাদের সুরকি খসে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। কক্ষের ভেতরের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ভবনটি হয়ে পড়েছে স্যাঁতসেতে। বর্ষার দিনে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিতে ভিজে যায় বইপত্র ও শিক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণ হলে ভবন ধসের শঙ্কা বেড়ে যায়। অভিভাবকেরা স্কুলে বাচ্চাদের পাঠাতে চান না। যার ফলে দিনদিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

শিক্ষার্থীর এক অভিভাবক ওমর ফারুক বলেন, ‘স্কুলের তথ্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।’
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও ৪র্থ শ্রেণির আদুল্লাহ আল মায়েদ জানায়, ‘আমাদের স্কুলের বিল্ডিং পুরানো হয়ে গেছে। পাশের রাস্তা দিয়ে বড় গাড়ি গেলে ভবনটা কেঁপে উঠে। পায়ই ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। গত মাসেও প্লাস্টার খসে পড়ে আমাদের কয়েকজন সহপাঠি মাথায় আঘাত পেয়েছে। সব সময় আমরা আতঙ্কে থাকি। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছি।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারুল বালা দাশ বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হয়। চারটি কক্ষের মধ্যে দু’টি পুরোপুরি পরিত্যক্ত। বাকি দু’টি কক্ষ জরাজীর্ণ হলেও নিরুপায় হয়ে সেগুলোতেই একসাথে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ইউএনও মহোদয় অস্থায়ী টিনশেড ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই ভবন নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন, “বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। ঝুঁকি এড়াতে অস্থায়ী টিনশেড ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’



