মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দুনিয়া কাঁপানো ছয়টি সফল নৌ অপারেশনের নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা, নৌকমান্ডো আবু মুছা চৌধুরীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৮ জুলাই)।
একাত্তরের সাহসী এই বীর ১৯৫৩ সালের ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া গ্রামের মহব্বত আলী মুন্সী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুলতান আহমেদ চৌধুরী ছিলেন বৃটিশ বিরোধী স্বদেশী। মা নফিজা খাতুন। তিনি আমার মায়ের ছোট ভাই-আমাদের ছোটমামা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নারায়ণহাট হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।
আবু মুছা চৌধুরী ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঐতিহাসিক অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেন। দুর্দান্ত আরেক অপারেশনে একাত্তরের ২ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীতে ডুবিয়ে দেন গ্রিসের পতাকাবাহী জাহাজ এমটি অ্যাভলুজ। এ অপারেশনের আগে তিনি সংকল্প করেছিলেন ‘ হয় অ্যাভলুজ ডুববে, নয় আমার লাশ ভাসবে’। এ অপারেশনের পর পাক বাহিনির মনোবলে ভীষণ চিড় ধরে। আন্তর্জাতিকভাবে তাদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে তুরাগ জাহাজ অপারেশনের ফলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা মোহনা দিয়ে সারাদেশে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ বিশ্বগোডাউন জেটিতে ধ্বংস করেন জাতিসংঘের খাদ্যবাহী জাহাজ মিনি লায়ন ও মিনি লেডি। ১০ ডিসেম্বর কাঁচপুর ফেরিঘাট ধ্বংসের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট ও সিলেটের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে আবু মুছা চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজের নাম অনিবার্য করে গেছেন।



