চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অর্থশতাধিক গাছ কেটে লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৬ আগষ্ট) সকাল-দুপুরে উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা এলাকায় এই লুটের ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী হাসান আলীর মালিকানাধীন ছয় একরের একটি বাগান থেকে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের এসব গাছ কেটে নিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাগানে ঢুকে গাছ কাটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় সর্তা বনবিভাগের কমর্তকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও গাছ কাটা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি বলে অভিযোগ আছে। তবে খিরাম আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদদ্যরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান।
বাগানের প্রকৃক মালিক ব্যবসায়ী মো. হাসান আলী অভিযোগ করেন, ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন করতে তিনি সকাল ভোরেই চট্টগ্রাম নগরের উদ্দেশ্যে রওয়ারা দেন। আমার অনুপস্থিতি টের পেয়ে এই সুযোগে স্থানীয় সন্ত্রাসী মহসিন, হারুন ও করিমের নেতৃত্বে একটি দল গাছগুলো কেটে লুট করেন। তারা ইতিপূর্বে বারবার হুমকি দিয়ে গাছ কাটা ও বাগান দখলের চেষ্টা করে আসছিলো। সকালে দলবল নিয়ে বাগানের অন্তত অর্থশতাধিক গাছ লুটে নেয়। জায়গাটি বন্দোবস্ত পেতে আবেদন প্রক্রিয়াধীন।’
এলাকাবাসী জানান, গত ৩১ জুলাই নানুপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. হাসান আলী ননজুড়িশিয়াল ষ্ট্্যাম্পমূলে বাগানটি তিন লক্ষ টাকায় দেখভাল করার জন্য ওই এলাকার মো. আহম্মদ ছাফাকে তদারকির দায়িত্ব দেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই বাগান দখলে নিতে এলাকার দুস্কৃতিকারী মহসিন, হারুন ও করিমের নেতৃত্বে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। মহসিন পতিত আওয়ামী লীগের আমলে এসব অপকর্মে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে, হারুন ও করিম স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানাগেছে। গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন, হারুন ও করিমের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমি দখল ও গাছ কাটার মত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তারা বিভিন্নজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে দখল ও লুটপাট চালাতে মরিয়া।
বাগান তত্বাবধানকারী মো. আহম্মদ ছাফা বলেন, ‘ষ্ট্যাম্পমুলে আমার তত্ববধানে থাকা বাগানটিতে সবসময় তারা কর্মচারীদের নানান কাজে বাঁধা দিতেন এবং তাদের মারধর করার চেষ্টা করতেন। ইতিমধ্যে গত দুই মাসে অন্তত তিন লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নিয়ে যান তারা। আজকের গাছ কাটার ঘটনায় আমি প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাই।’
সর্তা বনবিট কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মহসিন, হারুন ও করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান জানান, ‘এই বিষয়ে কেউ থানা পুলিশকে অবহিত করেন নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



