‘অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-২, ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় শেষ হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ভোটকেন্দ্রসহ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই আসনের মোট ১৪০টি ভোট কেন্দ্রের মাত্র ৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। একইভাবে ৮৪টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫৩টি ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যে তিনটি কেন্দ্র ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এগুলো উপজেলার ভুজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব-হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ভোটার তিন হাজার ৮৪৮। হেয়াকো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ভোটার পাঁচ হাজার ৬৭১ এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের পশ্চিম শৈলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। সেখানে মোট ভোটার ৩১ হাজার ১১৬ জন।
ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘আগেরকার নির্বাচনের তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে আমরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ছক তৈরি করেছি। সেনা, পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স সেখানে নিয়মিত টহলে থাকবেন। আশাকরি কোনো অপ্রীতিকর ঘনটা ছাড়াই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবো।’
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য-উপাত্ত, আগের নির্বাচনগুলোর সময়কার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার বিচার বিশে¬ষণ করেই কেন্দ্র গুলোর নিরাপত্তার ছক ও তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্রকে তিন ভাগে ভাগ করে অধিক, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা বলেন, ‘অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির সারোয়ার আলমগীর, জামায়াতের মো. নুরুল আমিন, সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার।’
এই সংসদীয় আসনে লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ ও নারী দুই লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। পোস্টাল সাত হাজার ২৫৫ জন ভোটার। মোট ১৪০ টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯০০টি ভোট কক্ষে ভোটাররা ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের প্রন্তুতি নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় মোট ৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি সেনা, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ চলবে।’



