১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির ১৮ চা-বাগান; সজীবতায় নতুন কুঁড়ির হাসি

এস এম আক্কাছ

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ায় সজীবতা ফিরে পেয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলার চা-বাগানগুলো। উপজেলার ১৮ চা-বাগানে নতুন করে পাতা গজাতে শুরু করেছে। এর আগে নানা কারণে রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল এসব বাগানের চা-গাছ। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির ফলে এই সমস্যা এখন আর নেই।

বৃষ্টিতে চা-বাগানগুলোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাগানের গাছে গাছে আসছে নতুন কচি পাতা। বাংলাদেশ চা সংসদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাগানগুলোতে পাতা তোলা বন্ধ থাকে। মার্চের শেষের দিকে সাধারণত বাগানগুলোতে পাতা তোলা শুরু হয়। এতদিন বৃষ্টির অভাবে এসব কাজ শুরু করা যায়নি। তবে এখন বৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২১টি চা-বাগানের কারখানা চালু করা হয়েছে।

চা সংসদ কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১৮টি চা-বাগানের মধ্যে ১৩টিতে চা-প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা রয়েছে। দেশের মোট উৎপাদিত চায়ের ১০ শতাংশ উৎপাদন হয় এ উপজেলা থেকে। প্রায় সব বাগানে কারখানা সার্বক্ষণিক চালু রাখার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের পাশাপাশি নিজস্ব জেনারেটরও রয়েছে।

কয়েকটি চা-বাগান সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাছের পর গাছে সবুজের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাতায় ভরে গেছে গাছগুলো। নতুন করে চায়ের কুঁিড় গজানোয় খুশি চা-বাগানের শ্রমিকেরা। কয়েকটি বাগানের চা-গাছ থেকে সমানে তোলা হচ্ছে পাতা। আবার কিছু বাগানের চা-গাছগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো থেকে ক্রমেরই পাতা তোলা শুরু হবে।

উপজেলার রাঙ্গাপানি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক উৎপল বিশ্বাস বলেন, ‘বছরের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা-পাতা উৎপাদন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল। তবে গত ২৪ মার্চ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

উদালিয়া চা-বাগানের সহকারি ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘খরা এবং কুয়াশায় প্রথম দিকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু এখন মনে স্বস্তি ফিরেছে। মাটির আর্দ্রতা বাড়ায় সারও দেওয়া যাচ্ছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে চা-গাছ। এতে ফলনের পাশাপাশি লাভও বাড়বে।’

কৈয়াছড়া চা-বাগানের সহকারি ব্যবস্থাপক শিটন সরকার বলেন, ‘চলতি বছরের ২৪ মার্চ প্রথম বৃষ্টিপাতে বাগানগুলোতে সজিবতা ফিরে আসে। এর পর ২৭ মার্চ ও ৭-১২ এপ্রিল বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতে বাগানের উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। পরে চলতি মাসের শুরু থেকে ক্রমে বৃষ্টির পরিমান বাড়তে থাকায় এর ফলে বাগানে নতুন কুড়ির হাসি মিলেছে। এতদিন যে বৃষ্টি ঝরেছিল তা চা-বাগানের অনুকুলে থাকায় এবার উৎপাদনও বৃদ্ধি পেতে পারে।’

চা-সংসদের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে চা উৎপানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?