ঊনিশ বছর বয়সী এইচএসসি পরিক্ষার্থী ইমরান উদ্দিন সিয়াম। পড়েন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সরকারি কলেজে। টগবগে তরুণ দাপিয়ে বেড়াতেন এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। খেলাধূলায় বন্ধুদের মাতিয়ে রাখতেন কলেজের পুরো আঙ্গিনা। কিন্তু সবাইকে মাতিয়ে রাখা সেই তরুণ এখন মৃত্যুর সাথে কাতরাচ্ছেন। একটি দুর্ঘটনা যে সারা জীবনের কান্না তা তিনি হাড়ে টের পাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁর ক্ষত পা-টি কেটে ফেলতে হবে। নইলে পচনে মৃত্যুর দিকে যেতে হবে।
প্রতিদিনের মতো গত ১১ মার্চ সকালে সিয়াম ব্যবসায়ী চাচা মো. আনোয়ার হোসেনের মোটর বাইক নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদর থেকে সুন্দরপুরের পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথেই চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সহাসড়কে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানীর একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে তাৎক্ষণিক মাথা, নাক ও মুখ ফেটে যায় এবং বাঁ পা থেঁতলে যায়। বিক্ষুদ্ধরা ভ্যানটি আটক করে এবং তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরে উন্নত চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. এস খালেদ বলেন, ‘যেভাবে তার পায়ে ক্ষত, তার দেশে বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁর পা কেটে কৃত্রিম পা সংযোজন করতে হবে। নইলে পচনে মৃত্যুর দিকে যেতে হবে।’
এদিকে, ঘটনার দিন বিক্ষুদ্ধ জনতা ভ্যানটি আটক করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে কোম্পানী প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তারা মৌখিক সহায়তার আশ্বাস দিলেও এখন উল্টো বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন বলে অভিযোগ সিয়ামের চাচা মো. আনোয়ার হোসেনের।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ যাবৎ সিয়ামের চিকিৎসায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি নিজেই স্থানীয় পরিবেশক হাবিবের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি চট্টগ্রাম ডিপো কর্মকর্তা মনিরকে সবকিছু অবহিত করে তারা কোম্পানীয় মালিকের সাথে কথা বলে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েও এখন শট্তা ও প্রবঞ্চনার আশ্রয় নেন। সিয়াম এখন সংকটাপন্ন।’
সিয়ামের ভাই মো. ইমন বলেন, ‘আমাদের অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে উন্নত চিকিৎসা অসম্ভব। সরকার বা দায়ী বৃহত্তর কোম্পানী চাইলে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। এই মুহুর্তে অপারেশন করাতে ব্যর্থ হলে ভাইকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে।’
প্রাণ-আরএফএল চট্টগ্রামের ডিপো কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থদের দাবীর অংক বেশি হওয়ায় সমাধান হয়নি। চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং কোম্পানীয় উর্ধ্বতন বিষয়টি অবহিত আছে। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।’
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মো. সাহাব উদ্দিন বলেন. ‘দুর্ঘটনার বিষয়ে উভয়ে সমস্যার-সমাধানে বসেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে নিস্পত্তি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ মামলা দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’



