২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চড়ুইভাতিতে প্রাণের উচ্ছ্বাস, আনন্দে মেতেছে শিক্ষার্থীরা

সালাহউদ্দিন জিকু

রঙিন পোশাক, মুখভরা হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছোট ছোট মুখ – সকাল থেকেই যেন উৎসবের আবহ। কেউ খেলায় মগ্ন, কেউবা রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ছোট ছোট হাতে সবজি কাটা, চুলা জ্বালানো কিংবা খুন্তি নাড়ানোর দৃশ্য তৈরি করে এক ভিন্ন আনন্দের আবহ। এমনই প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান।

ফটিকছড়ি উপজেলার শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চিত্র দেখা যায়। এতে অংশ নেয় শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনরা।

শুধু খাওয়া-দাওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। দৌড়ঝাঁপ, লুকোচুরি, দড়ি লাফ, ফুটবল, গান-বাজনা – সব মিলিয়ে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলাধুলার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বেলুন পাসিং, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, লটারির মাধ্যমে ছড়া, কবিতা ও কৌতুক পরিবেশন।

শিক্ষার্থীরা নিজেরাই রান্না করে তা পরিবেশন করে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে। কেউ পানি পরিবেশন করছে, কেউ থালা-বাসন পরিষ্কার করছে – সব মিলিয়ে দলবদ্ধতা, সহযোগিতা ও ভাগাভাগির এক বাস্তব চর্চা লক্ষ্য করা যায়।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল রঙিন সজ্জায়। শিল্পীর ছোঁয়ায় পুরো ক্যাম্পাস যেন রঙধনুর সাত রঙে রাঙানো এক আনন্দভূমিতে পরিণত হয়। এই আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষকরাও যেন ফিরে যান নিজেদের শৈশবের স্মৃতিতে।

চড়ুইভাতির অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলে ব্যবসায়ী নুরুল আমীন সোহেল ও মোহাম্মদ হোসাইন বাবু। তাঁরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। ব্যস্ততার মাঝে এমন সময় খুব কমই পাওয়া যায়। আজকের অনুষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সুন্দর হয়েছে।

ক্ষুদে শিক্ষার্থী মারিয়া ও অপরাজিতা জানায়, প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। সারাদিন খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া আর গান-বাজনায় খুব মজা করি। আমরা চাই এমন আয়োজন সবসময় থাকুক।

সহকারী শিক্ষক মো. জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এই চড়ুইভাতির আয়োজন করা হয়।

প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ বলেন, চড়ুইভাতি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০০৮ সাল থেকে আমরা এই আয়োজন করে আসছি। এতে শিশুদের মানবিক, সামাজিক ও নান্দনিক বিকাশ ঘটে।

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে এমন আয়োজন যেন পরিণত হয়েছে আনন্দ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়। হাসি-খুশি মুখ আর উচ্ছ্বাসে ভরা দিনটি শুধু শিশুদের নয়, সবার মনেই ছড়িয়ে দেয় নস্টালজিয়ার ছোঁয়া।

এই আয়োজনে অংশ নেন সুন্দরপুর প্রবাসী পরিষদের নেতৃবৃন্দও। তাঁরা জানান, প্রবাসে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন আয়োজন দেখলে মনে পড়ে যায় শৈশবের সেই দিনগুলো। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো আবারও যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।


তাঁরা বলেন,এমন চড়ুইভাতির আয়োজন আমাদের শেকড়ের সাথে নতুন করে যুক্ত করে। প্রবাসে থেকে আমরা এসব মুহূর্ত খুব মিস করি। তাই সরাসরি এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে সত্যিই গর্বিত ও আনন্দিত।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?